ঢাকা মঙ্গলবার, ০৭ এপ্রিল ২০২৬ , ২৩ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ইসরায়েলের হামলা ‘যুদ্ধবিরতি’ প্রত্যাখ্যানের ইঙ্গিত: লেবাননের প্রধানমন্ত্রী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
১ বছর আগে
ইসরায়েলের হামলা ‘যুদ্ধবিরতি’ প্রত্যাখ্যানের ইঙ্গিত: লেবাননের প্রধানমন্ত্রী
লেবাননে ইসরায়েলি হামলা বাড়ানোর সমালোচনা করেছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী নাজিব মিকাতি। তিনি বলেছেন, ইসরায়েলের হামলা যুদ্ধবিরতির প্রচেষ্টাকে প্রত্যাখ্যান করার ইঙ্গিত দেয়। আজ শুক্রবার এক বিবৃতিতে তিনি এ কথা বলেছেন।

ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপি জানিয়েছে, লেবাননে হিজবুল্লাহর সঙ্গে যুদ্ধবিরতি নিয়ে আলোচনা করতে সফররত মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সাক্ষাতের একদিন পরই মিকাতি এই বিবৃতি দিলেন।

বিবৃতিতে মিকাতি বলেছেন, ‘লেবাননে নতুন করে ইসরায়েলি হামলা বাড়ানো, লেবানিজ অঞ্চল থেকে বাসিন্দাদের সরে যাওয়ার জন্য বারবার হুমকি এবং হামলার জন্য দক্ষিণ বৈরুতের শহরতলিকে নতুন লক্ষ্যবস্তু বানানোর মাধ্যমে শত্রুরা (ইসরায়েল) মূলত যুদ্ধবিরতির প্রচেষ্টাকে প্রত্যাখ্যান করারই ইঙ্গিত দিচ্ছে।’

ইসরায়েলের কূটনৈতিক আচরণ যুদ্ধবিরতি প্রত্যাখ্যানের ইঙ্গিত দেয় বলেও বিবৃতিতে উল্লেখ করেছেন লেবাননের প্রধানমন্ত্রী। তিনি আরও বলেন, ‘ইসরায়েলের বিবৃতি ও কূটনৈতিক যে সংকেত লেবানন পেয়েছে, তা প্রস্তাবিত সমাধান প্রত্যাখ্যান করার এবং হত্যা ও ধ্বংসের পদ্ধতির ওপর জোর দেওয়ার ক্ষেত্রে ইসরায়েলের একগুঁয়েমিকেই নিশ্চিত করে।’

এ দিকে বার্তা সংস্থা রয়টার্স বলেছে, লেবাননের দিক থেকে আসা যেকোনো নিরাপত্তার হুমকি মোকাবিলার ক্ষমতা ইসরায়েলের হাতে রাখা ও দেশটির উত্তরাঞ্চলের বাস্তুচ্যুত লোকদের প্রত্যাবর্তনের শর্তে নেতানিয়াহু যুদ্ধবিরতিতে মত দিয়েছেন।

নেতানিয়াহুর কার্যালয় দুই মার্কিন দূতকে বলেছে, ‘প্রধান শর্ত হলো... চুক্তিটি কার্যকর করার ও লেবাননের দিক থেকে নিরাপত্তার ইস্যুতে যেকোনো হুমকিকে নস্যাত করার জন্য ইসরায়েলের ক্ষমতা থাকতে হবে।’

আমেরিকান দুই দূত ব্রেট ম্যাকগার্ক ও আমোস হোচস্টেইন লেবানন ও গাজায় যুদ্ধবিরতি কার্যকর করার চেষ্টা চালাতে ইসরায়েলে গেছেন।

গত সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি সময় থেকে রাজধানী বৈরুতসহ লেবাননের বিভিন্ন স্থানে বিমান হামলা চালিয়ে যাচ্ছে ইসরায়েল। এতে হাজারো মানুষ নিহত হয়েছে। যাদের মধ্যে অনেক বেসামরিক নাগরিক রয়েছে। তবে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর দাবি, লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর অবস্থান, অবকাঠামো ও অস্ত্রাগার লক্ষ্য করে এসব হামলা চালানো হচ্ছে।

পাল্টা হামলা চালাচ্ছে হিজবুল্লাহও। লেবাননে অভিযানে অংশ নেওয়া ইসরায়েলি বাহিনীর ৭০ জন সেনাকে হত্যার দাবি করেছে সশস্ত্র গোষ্ঠীটি। তবে ঠিক কত দিনে এই সেনারা নিহত হয়েছেন, তা উল্লেখ করা হয়নি বিবৃতিতে।

ফিলিস্তিনের গাজার স্বাধীনতাকামী সশস্ত্র সংগঠন হামাসের প্রতি সহানুভূতিশীল হিজবুল্লাহ গাজায় ইসরায়েলি আগ্রাসনের পর থেকেই নিয়মিত ইসরায়েলে মিসাইল ছুড়ে আসছিল। এরই প্রতিক্রিয়ায় লেবাননে অভিযান চালাচ্ছে ইসরায়েল।


কমেন্ট বক্স